কুমিল্লা, ১৬ মার্চ ২০২৩
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (কুমেক) দুর্নীতি, অনিয়ম ও নৈরাজ্য চরম আকার ধারণ করেছে। সরকারি বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট করছে একটি প্রভাবশালী চক্র, যার নেতৃত্বে রয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য বাহারের ঘনিষ্ঠ ক্যাডার বাহিনী। এই অনিয়মের কারণে সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালের কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এমপি বাহারের অনুগত ক্যাডার জিএস শহীদ এবং তার ভাতিজা, কাউন্সিলর সাদির হাতে। হাসপাতালের বিভিন্ন কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা তাদের ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না।সরেজমিন তদন্তে দেখা গেছে, হাসপাতালের শৌচাগারগুলো অপরিচ্ছন্ন, পুরো হাসপাতালে ছড়িয়ে আছে ছারপোকা, নোংরা টিস্যু ও আবর্জনার স্তূপ। ওষুধ বিতরণেও রয়েছে চরম অনিয়ম—বিনা স্লিপে ওষুধ বিতরণ, হিসাবের গরমিল এবং রোগীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।হাসপাতালে বর্তমানে ৪০টি ওয়ার্ডের জন্য ১৫৩ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োজিত থাকলেও হাসপাতাল অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিমজ্জিত। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জনবল সংকটের অজুহাত দেখালেও বাস্তবে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ। ট্রলিচালক, ওয়ার্ড বয় থেকে শুরু করে সিট বরাদ্দ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে টাকা দাবি করা হচ্ছে—২০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত।রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ অনুযায়ী, প্রাইভেট ক্লিনিকে রোগী পাঠাতে দালালচক্র সক্রিয়।মেডিসিন, গাইনি, শিশু, জরুরি বিভাগে ভর্তি হতে হলেও দিতে হচ্ছে ঘুষ, না হলে পাঠানো হচ্ছে সাধারণ ওয়ার্ডে। এমনকি ওয়ার্ড বয়দের মাসিক ভিত্তিতে এমপি বাহারের লোকদের টাকা দিতে হয় বলে তারা জানালেও, কেউ নাম প্রকাশ করতে সাহস পাননি।এছাড়াও, ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা চিকিৎসকদের চেম্বারে ভিড় করে রোগী দেখার পরিবেশ নষ্ট করছে। আউটসোর্সিং কর্মীরা ঠিকমতো বেতন না পাওয়ায় কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন। নার্সদের কাজ করতে হচ্ছে ওয়ার্ড বয় ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের দিয়ে, যার জন্য আলাদাভাবে ঘুষ নেওয়া হচ্ছে।চিকিৎসকের স্বাক্ষর ছাড়াই ওষুধ বিতরণের ঘটনাও ঘটছে, যার প্রমাণও পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার দায়িত্ব অস্বীকার করেন।সাধারণ মানুষ বলছেন, বছরের পর বছর ধরে এই অনিয়ম, দুর্নীতি ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য চললেও প্রশাসন বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এমপি বাহারের ক্যাডারদের প্রভাবে কেউ মুখ খুলতে পারছে না, আর জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে তাদের ন্যায্য অধিকার—চিকিৎসাসেবা থেকে।